অনেকেই অবাক হন যে প্যানেল কয়েক দিনেই বসে যায়, অথচ পুরো প্রক্রিয়ায় কয়েক সপ্তাহ লাগে। ছাদের কাজে খুব কমই দেরি হয়। দেরি হয় কাগজপত্র আর অনুমোদনে। ধাপে ধাপে কী হয় আর সময়টা কোথায় যায়, নিচে দেওয়া হল।
ধাপ 1: বিল, সার্ভে ও ডিজাইন
আপনি আমাদের বিল আর ছাদের কয়েকটি ছবি পাঠান। আমরা এসে মাপজোখ করি, ছায়া আর কাঠামো দেখি, আপনার LT প্যানেল ও মিটার পরীক্ষা করি, তারপর প্ল্যান্টটি 3D-তে মডেল করি। বাড়ির জন্য এতে কয়েক দিন লাগে; একাধিক ছাদওয়ালা কারখানার জন্য একটু বেশি।
ধাপ 2: প্রস্তাব
আপনি একটি লিখিত প্রস্তাব পাবেন — তাতে থাকবে ডিজাইন, মাসওয়ারি উৎপাদন, কোন জিনিস কোন ব্র্যান্ডের তা সহ পুরো কাজের পরিধি, আর কী কী অন্তর্ভুক্ত নয়। বেশিরভাগ মানুষ এই ধাপে সময় নেন, আর সেটাই ঠিক। প্রশ্ন করুন। ডেটাশিট চেয়ে নিন।
ধাপ 3: অনুমোদনের কাজ শুরু
আপনি অর্ডার দিলে আমরা আপনার DISCOM-এ নেট মিটারিংয়ের আবেদন জমা দিই। যে বাড়ি পিএম সূর্য ঘর-এর ভর্তুকি নেবে, তার আবেদন আগে জাতীয় পোর্টাল আর DISCOM-এর ফিজিবিলিটি যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যায়। প্ল্যান্টের তুলনায় আপনার স্যাংশনড লোড বা কন্ট্র্যাক্ট ডিমান্ড কম হলে, এসবের আগেই লোড বাড়ানোর আবেদন করতে হবে।
ধাপ 4: মালপত্র
মডিউল, ইনভার্টার আর বাকি সরঞ্জাম Waaree-র চ্যানেলের মাধ্যমে অর্ডার করা হয়। রেডি স্টকের জিনিস তাড়াতাড়ি আসে; অর্ডার দিয়ে তৈরি করাতে হয় এমন জিনিসে বেশি সময় লাগে। তাই আপনার ডিজাইন কোন শ্রেণিতে পড়ছে, তা আমরা শুরুতেই জানিয়ে দিই।
ধাপ 5: ইনস্টলেশন
| প্ল্যান্ট | সাইটে সাধারণত কত সময় |
|---|---|
| বাড়ি, 2 থেকে 10 kW | কয়েক দিন |
| দোকান, অফিস বা হোটেল | প্রায় এক থেকে দুই সপ্তাহ |
| কারখানা, 100 kW ও তার বেশি | কয়েক সপ্তাহ, কারখানার কাজ বুঝে পরিকল্পনা করে |
বাণিজ্যিক ও শিল্প প্ল্যান্টের ক্ষেত্রে আমরা সাধারণত ওয়ার্ক অর্ডারের 45 থেকে 60 দিনের মধ্যে কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিই — সাইট প্রস্তুত থাকা আর অনুমোদন সাপেক্ষে। আপনার প্যানেলে চূড়ান্ত সংযোগের জন্য অল্প সময়ের একটি পরিকল্পিত শাটডাউন লাগে, যা আগে থেকেই আপনার সঙ্গে ঠিক করে নেওয়া হয়।
ধাপ 6: পরিদর্শন ও নেট মিটার
ইনস্টলেশনের পর DISCOM প্ল্যান্টটি পরিদর্শন করে এবং দ্বিমুখী (বাই-ডিরেকশনাল) নেট মিটার বসায়। পশ্চিমবঙ্গে 100 kW ও তার বেশি প্ল্যান্ট চালু করার আগে চিফ ইলেকট্রিক্যাল ইন্সপেক্টরের (CEIG) অনুমোদনও লাগে। এই ধাপটি কর্তৃপক্ষের হাতে, তাই এর পেছনেই আমরা সবচেয়ে বেশি লেগে থাকি।
ধাপ 7: কমিশনিং ও হস্তান্তর
আমরা প্ল্যান্ট কমিশন করি, আপনার ফোনে মনিটরিং চালু করে দিই, আপনাকে বা আপনার কর্মীদের প্যানেল পরিষ্কারের নিয়ম দেখিয়ে দিই, আর ওয়ারেন্টির কাগজ হাতে তুলে দিই। পিএম সূর্য ঘর-এর বাড়িগুলো এরপর ভর্তুকির জন্য চূড়ান্ত নথি জমা দেয় — সেগুলো আমরাই তৈরি করে দিই।
বেশিরভাগ দেরি কেন হয়
- স্যাংশনড লোড খুব কম। প্রথম দিনেই এটা দেখে নিন, প্যানেল আসার পরে নয়।
- ছাদ মেরামত। লিকেজ, ওয়াটারপ্রুফিং বা পুরনো জীর্ণ শিটের ছাদ — এগুলো ইনস্টলেশনের আগেই সারাতে হবে, পরে নয়।
- কাগজপত্রে অমিল। বিদ্যুৎ সংযোগের নাম, সম্পত্তির কাগজ আর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট — সব এক হওয়া উচিত, বিশেষ করে ভর্তুকির দাবির ক্ষেত্রে।
- বড় প্ল্যান্টে CEIG-এর সময়। আপনার পরিকল্পনায় এটা হিসাবে রাখুন।
এর কোনোটাই অস্বাভাবিক নয়, আর সবগুলোই আগেভাগে ঠিক করা সহজ। সেই কারণেই প্রস্তাব লেখার আগে আমাদের সার্ভেতে লোড আর ছাদ পরীক্ষা করা হয়। বাড়ির জন্য প্ল্যান্টের কথা ভাবলে, আমাদের পিএম সূর্য ঘর ধাপে ধাপে গাইডে ভর্তুকির দিকটা দেওয়া আছে।
চটজলদি উত্তর
বাড়িতে রুফটপ সোলার বসাতে কত সময় লাগে?
ছাদের কাজ সাধারণত কয়েক দিনেই হয়ে যায়। নেট মিটারিং অনুমোদন আর নেট মিটার সহ পুরো প্রক্রিয়াটা মূলত DISCOM-এর ওপর নির্ভর করে।
বাণিজ্যিক সোলার প্ল্যান্ট বসাতে কত সময় লাগে?
বাণিজ্যিক ও শিল্প প্ল্যান্ট আমরা সাধারণত ওয়ার্ক অর্ডারের 45 থেকে 60 দিনের মধ্যে শেষ করি — সাইট প্রস্তুত থাকা আর অনুমোদন সাপেক্ষে।
পশ্চিমবঙ্গে সোলারের জন্য কি CEIG অনুমোদন লাগে?
হ্যাঁ, 100 kW ও তার বেশি প্ল্যান্টের জন্য — প্ল্যান্ট চালু করার আগে।