আপনার কত বড় সোলার প্ল্যান্ট দরকার, তা বলার আগে যে কারও উচিত আপনার বিদ্যুৎ বিল ঠিকভাবে পড়া। বেশিরভাগ মানুষ শুধু টাকার অঙ্ক আর শেষ তারিখ দেখেন। কাজের তথ্য থাকে তার চারপাশের ছোট ছোট ঘরে।
এই গাইড WBSEDCL বিল ধরে লেখা, যা পশ্চিমবঙ্গের বেশিরভাগ এলাকায় চলে। কলকাতার CESC বিল দেখতে আলাদা, তবে মূল তথ্য একই থাকে।
1. বিলিং পিরিয়ড
এখান থেকে শুরু করুন, কারণ বাকি সবকিছু এর উপর নির্ভর করে। পশ্চিমবঙ্গে অনেক বাড়ির বিল তিন মাসের হয়, আর বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ও শিল্প বিল মাসিক। তিন মাসের বিলকে মাসিক হিসেবের সঙ্গে তুলনা করলে প্ল্যান্টের সাইজ তিন গুণ ভুল হবে। আমরা এমন হতে দেখেছি।
2. ব্যবহৃত ইউনিট
সোলারের জন্য এটাই সবচেয়ে জরুরি সংখ্যা। বর্তমান মিটার রিডিং থেকে আগের রিডিং বাদ দিলে এটা পাওয়া যায়, বড় সংযোগে কখনও কখনও তা মিটার ফ্যাক্টর দিয়ে গুণ করা হয়। পিরিয়ডের মাঝে মিটার বদলালে বিলে দুই বা তিনটি মিটার লাইন থাকতে পারে, তখন সবগুলো যোগ করতে হবে।
একটা বিল যথেষ্ট নয়। পারলে বারো মাসের বিল জোগাড় করুন। গরমে পাখা আর এয়ার কন্ডিশনার চলায় বাংলায় বিদ্যুৎ ব্যবহার অনেকটা বেড়ে যায়, আর একটা মাত্র বিল দেখে প্ল্যান্টের সাইজ অনেক বড় বা অনেক ছোট মনে হতে পারে।
3. স্যাংশনড লোড বা কন্ট্র্যাক্ট ডিমান্ড
বাড়ি আর ছোট দোকানের স্যাংশনড লোড kW-এ থাকে। বড় সংযোগের কন্ট্র্যাক্ট ডিমান্ড থাকে kVA-তে। পশ্চিমবঙ্গের নেট মিটারিং-এ এই সংখ্যাই আপনার সোলার প্ল্যান্টের সর্বোচ্চ সাইজ ঠিক করে, তাই আগেভাগে দেখে নিন। কম হলে, সোলারের আবেদনের আগে এটা বাড়ানোর আবেদন জমা দিতে হবে।
4. ট্যারিফ ক্যাটাগরি ও টাইম-অফ-ডে ব্লক
আপনার ক্যাটাগরি (গার্হস্থ্য, বাণিজ্যিক বা শিল্প, LT বা HT) প্রতি ইউনিটের রেট ঠিক করে। অনেক বাণিজ্যিক ও শিল্প সংযোগের বিল টাইম-অফ-ডে অনুযায়ীও হয়, আর বিলে প্রতিটি ব্লকের ইউনিট আলাদা দেখানো থাকে:
- নরমাল: সকাল 6টা থেকে বিকেল 5টা
- পিক: বিকেল 5টা থেকে রাত 11টা
- অফ-পিক: রাত 11টা থেকে সকাল 6টা
সোলার উৎপাদন হয় নরমাল ব্লকে, আর 2025 সালের নিয়মে তার উদ্বৃত্ত শুধু সস্তা ব্লকে নামতে পারে। তাই এই তিনটি লাইনের ভাগ দেখে আমরা বুঝি আপনার বিলের কতটা সোলার সত্যিই ছুঁতে পারবে। এ নিয়ে আরও আছে কারখানার সোলার প্ল্যান্টের সাইজ লেখায়।
5. ফিক্সড বা ডিমান্ড চার্জ
প্রতিটি বিলে এমন একটা চার্জ থাকে যা ইউনিটের উপর নির্ভর করে না: ছোট সংযোগে ফিক্সড চার্জ, বড় সংযোগে ডিমান্ড চার্জ। HT বিলে ডিমান্ড চার্জ সাধারণত ধরা হয় আপনার আসল সর্বোচ্চ ডিমান্ড আর কন্ট্র্যাক্ট ডিমান্ডের একটি নির্দিষ্ট অংশ — এই দুটোর মধ্যে যেটা বেশি, তার উপর।
সোলার আপনার কেনা ইউনিট কমায়। বিলের এই অংশটা এতে বাদ যায় না, আর যিনি বলেন আপনার বিল শূন্য হয়ে যাবে, তিনি এটার কথা ভুলে গেছেন। আমাদের ক্যালকুলেটর ধরে নেয় যে ফিক্সড অংশটা থেকে যায়, তাই এতে দেখানো সাশ্রয় সাধারণ ইউনিট-গুণ-রেট হিসেবের চেয়ে কম।
6. বিদ্যুৎ শুল্ক (ডিউটি)
ডিউটি হল রাজ্যের একটি কর, যা এনার্জি চার্জ আর ফিক্সড চার্জের ওপর শতাংশ হিসেবে বসে। আমরা যে শিল্প সংযোগগুলোর বিল খুঁটিয়ে দেখেছি, তার কয়েকটিতে মাসিক খরচ একটা নির্দিষ্ট সীমা পেরোলেই ডিউটির হার এক ধাপ বেড়ে যায়। এর একটা ভালো দিকও আছে: সোলার প্ল্যান্ট যদি কোনো মাসের খরচ সেই ধাপের নিচে নামিয়ে আনে, তাহলে ডিউটির হার কমে পুরো বিলের ওপর — শুধু সোলার যে ইউনিটগুলোর জায়গা নিল, সেগুলোর ওপর নয়।
7. রিবেট (ছাড়)
শেষ তারিখের মধ্যে দেয় টাকার অঙ্কটি দেখুন। অনেক বিলে শেষ তারিখের মধ্যে অনলাইনে দিলে তার চেয়ে একটু কম অঙ্কও লেখা থাকে। সময়মতো অনলাইনে বিল দেওয়া সবচেয়ে সহজ সাশ্রয়গুলোর একটি — সোলার থাকুক বা না থাকুক।
8. আমাদের কী পাঠাবেন
আপনার শেষ তিনটি বিলের পরিষ্কার ছবি (বারোটি হলে আরও ভালো), যাতে কনজিউমার নম্বর, ক্যাটাগরি, ইউনিট, লোড আর টাইম-অফ-ডে-র লাইনগুলো পড়া যায়। প্রথমবার সাইজ ঠিক করতে এটুকুই যথেষ্ট, আর প্রতিটি প্রস্তাবে “আপনার বর্তমান বিদ্যুতের খরচ” পাতাটি আমরা এগুলো দিয়েই তৈরি করি। ছবিগুলো WhatsApp-এ পাঠিয়ে দিন।
চটজলদি উত্তর
WBSEDCL বিলে খরচ হওয়া ইউনিট কোথায় পাব?
মিটার রিডিং অংশে: বর্তমান রিডিং থেকে আগের রিডিং বাদ দিন, আর মিটার ফ্যাক্টর লেখা থাকলে তা দিয়ে গুণ করুন। বিলে মোট বিল হওয়া ইউনিটও ছাপা থাকে।
সোলার কি আমার বিদ্যুৎ বিলের ফিক্সড চার্জ কমায়?
না। সোলার কমায় গ্রিড থেকে কেনা ইউনিট। ফিক্সড বা ডিমান্ড চার্জ বিলে থেকেই যায়।
আমার বাড়ির WBSEDCL বিল কি মাসিক, না ত্রৈমাসিক?
অনেক গার্হস্থ্য বিল তিন মাসের হয়। মাসিক খরচ হিসাব করার আগে বিলে ছাপা বিলিং পিরিয়ড দেখে নিন।