রুফটপ সোলার প্ল্যান্টে কোনো চলমান যন্ত্রাংশ নেই, তাই দেখভাল খুব সামান্যই লাগে। কিন্তু সামান্য মানে একেবারে কিছুই না, তা নয় — আর বাংলার আবহাওয়া প্রতি কয়েক মাসে নতুন কিছু নিয়ে হাজির হয়। ঋতু ধরে ধরে কী খেয়াল রাখবেন, নিচে দেওয়া হল।
নভেম্বর থেকে মার্চ: ধুলো আর কুয়াশা
শুকনো মাসগুলো উৎপাদনের জন্য ভালো, কিন্তু ধুলোর দিক থেকে খারাপ। ব্যস্ত রাস্তা, নির্মাণস্থল বা কারখানার কাছের ছাদে দু-এক সপ্তাহেই ধুলোর আস্তরণ জমে চুপচাপ উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। প্রতি পনেরো দিনে সাধারণ জল দিয়ে একবার ধুয়ে দিলেই সাধারণত সমস্যা মিটে যায়।
উত্তরবঙ্গে শীতের সকাল প্রায়ই কুয়াশায় শুরু হয়, তাই উৎপাদন বাড়ে বেলার দিকে। এটা স্বাভাবিক, আর আমাদের মাসিক হিসাবে আগেই ধরা আছে। এর জন্য বাড়তি পরিষ্কার করার দরকার নেই।
এপ্রিল ও মে: কালবৈশাখী ঝড়
বর্ষার আগের ঝড়ে হঠাৎ জোরালো হাওয়া, শিলাবৃষ্টি আর প্রচুর বাজ পড়ে। ঠিকভাবে লাগানো কাঠামো, কার্যকর লাইটনিং অ্যারেস্টার আর ভালো আর্থিং — এদের আসল পরীক্ষা তখনই। ঝড়ের মরশুমের আগে দেখে নেওয়া ভালো যে:
- কাঠামোর বোল্ট আর ক্ল্যাম্প শক্ত করে আঁটা আছে, আর কোথাও মরচে ধরে ক্ষয়ে যায়নি;
- লাইটনিং অ্যারেস্টার আর তার আর্থ সংযোগ অক্ষত আছে;
- কেবল আলগা হয়ে ঝুলছে না বা ধারালো কিনারায় ঘষা খাচ্ছে না।
বড় ঝড়ের পর মনিটরিং অ্যাপ খুলে দেখুন। পরের রোদ ঝলমলে দিনে উৎপাদন যদি স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হয়, তাহলে কেউ ছাদে ওঠার আগেই আমাদের ফোন করুন।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর: বর্ষা
বৃষ্টি আপনার হয়ে অনেকটা পরিষ্কারের কাজ করে দেয়, তাই নিয়মটা একটু ঢিলে করতে পারেন। ঘন মেঘলা দিনে উৎপাদন কমে, তবে পুরো মাস ধরলে বর্ষাতেও ডিসেম্বর আর জানুয়ারির চেয়ে বেশি উৎপাদন হয় — বছরের সবচেয়ে দুর্বল মাস ওই দুটোই। এটা প্রত্যাশিত, আর নেট মিটারিংয়ে বেশি রোদের মাসগুলোর বাড়তি ইউনিট দিয়েই প্ল্যান্ট সেই সময়টা পার করে দেয়।
ছায়াযুক্ত কোণে পাতা, শ্যাওলা আর পাখির বিষ্ঠা জমছে কি না খেয়াল রাখুন, আর দেখুন বৃষ্টির জল যেন সহজে বেরিয়ে যায়, কাঠামোর পায়ার চারপাশে জমে না থাকে।
অক্টোবর: বাকি কাজ সেরে নেওয়ার মাস
বৃষ্টি থামলে আকাশ পরিষ্কার হয় আর উৎপাদন আবার বাড়ে। ভালো করে পরিষ্কার করা, আর বছরে একবার আর্থিং রেজিস্ট্যান্স, সংযোগ ও ইনভার্টারের ভেন্ট পরীক্ষার এটাই উপযুক্ত সময়।
নিরাপদে কীভাবে পরিষ্কার করবেন
- সাধারণ নরম (সফট) জল আর নরম ব্রাশ বা মপ ব্যবহার করুন। কোনো ডিটারজেন্ট, প্রেশার ওয়াশার বা ঘষার প্যাড নয়।
- সকালে তাড়াতাড়ি বা সন্ধ্যায়, প্যানেল ঠান্ডা থাকলে পরিষ্কার করুন। দুপুরে গরম প্যানেলে ঠান্ডা জল ঢালা একেবারেই ঠিক নয়।
- কখনও প্যানেলের ওপর দিয়ে হাঁটবেন না। ওয়াকওয়ে ব্যবহার করুন।
- ইনভার্টার আর ডিস্ট্রিবিউশন বক্স বন্ধই রাখুন। ওগুলো প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ানের কাজ।
কিছু গড়বড় হলে অ্যাপই আপনাকে জানাবে
মনিটরিং অ্যাপই রক্ষণাবেক্ষণের সবচেয়ে ভালো হাতিয়ার। রোদ ঝলমলে দিনের ইউনিট এক সপ্তাহ আগের একই রকম দিনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। হঠাৎ কমে গেলে সাধারণত কারণ হয় ব্রেকার ট্রিপ করা, আলগা কানেক্টর বা নোংরা প্যানেল — প্যানেল খারাপ হয়ে যাওয়া নয়। কিছু অস্বাভাবিক লাগলে আমাদের একটা স্ক্রিনশট পাঠিয়ে দিন।
প্রতিটি Solarverse প্ল্যান্টের সঙ্গে কমিশনিং থেকে এক বছরের বিনামূল্যে রক্ষণাবেক্ষণ থাকে, তারপর AMC প্ল্যান। AMC-তে কী কী থাকে দেখুন, অথবা পড়ুন প্রতি মাসে একটি প্ল্যান্টের কত উৎপাদন হওয়া উচিত।
চটজলদি উত্তর
পশ্চিমবঙ্গে সোলার প্যানেল কত দিন পরপর পরিষ্কার করা উচিত?
শুকনো, ধুলোর মাসগুলোতে মোটামুটি প্রতি দুই সপ্তাহে একবার, সাধারণ জল দিয়ে। বর্ষায় এর চেয়ে কম।
সাবান বা প্রেশার ওয়াশার দিয়ে কি সোলার প্যানেল পরিষ্কার করা যায়?
না। সাধারণ নরম জল আর নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন। ডিটারজেন্ট আর প্রেশার ওয়াশার কাচের কোটিং ও সিল নষ্ট করতে পারে।
ঝড়ের পরে কী দেখে নেব?
পরের রোদ ঝলমলে দিনে মনিটরিং অ্যাপ দেখুন। উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম হলে, কেউ ছাদে ওঠার আগেই আপনার ইনস্টলারকে ফোন করুন।